সোনালী কথা
সোনালী জীবনের না বলা কিছু কথা

মানবাধিকার প্রতি‍‍‍‍‍‌ষ্টায় মহানবী সাঃ

মানবাধিকার প্রতি‍‍‍‍‍‌ষ্টায় মহানবী সাঃ

সারা পৃথিবী যখন জাহিলী আঁধারে আচ্ছন্ন, পাশবিকতার কাতর আর্তনাদে বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল, যখন ছিলনা কোথাও আলোর লেশ মাত্র। তখন মহানবী (সাঃ) এর আগমন ছিল বিশ্বমানবতার জন্য একটি বিশেষ করূনা। তাঁর আগমনে অধিকার হারা মানুষগুলো পেয়ে গেল অধিকারের নিশ্চয়তা পেল সঠিক পথের দিশা। মহানবী (সাঃ) শুধুমাত্র মানুষেরই অধিকার প্রতিষ্টা করেননি, বরং পশু পাখির, এমনকি কীট পতঙ্গের অধিকারও প্রতিষ্টা করেছেন। তাঁর যুগান্তকারী সংবিধানের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল মানুষের সব ধরনের অধিকার সুপ্রতিষ্টিত হয়েছে। এর কিছু বিবরণ তুলে ধরা হল।

মানুষের মৌলিক অধিকার: মহানবী (সাঃ)-এর মদীনাভিত্তিক কল্যান ইসলামী রাষ্টের দ্বারা মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার তথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্হান, শিক্ষা প্রভৃতি পূর্ন ভাবে লাভ করেছে। দেশের সকল বিধবা ও ইয়াতীম সহ সকল অসহায় মানুষের সার্বিক বন্দোবস্ত ইসলমী রাষ্ট্রের মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়েছে।মহানবী (সাঃ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে মানুষর জীবনের কোন নিরাপত্তা ছিলনা। মারামারি, হানাহানি ছিল তাদে দৈনন্দিন ব্যাপার। মানুষের জীবনের নিরাপত্তায় রাসূল (সাঃ) পবিত্র কোরআনের বিধিন কায়েম করেন। মহান আল্লাহ বলেন- “তোমরা সে প্রানকে হত্যা করোনা, আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন।” (সূরাহ বণী ইসরাঈল, আয়াত:৩৩)
ব্যাক্তি স্বাধীনতা: মহানবী (সাঃ) ঘোষনা দিলেন-সাদা-কালো, ধনী-গরীব, মালিক-গোলাম, শাসক ও শাসিত নির্বিশেষে সব মানুষই এক আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে সমান অধিকার স্বাধীনতা ভোগ করবে।। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন- এমনকি তিনি বিধর্মীদেরও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দেন“ধর্মে কোন জোর জবরদস্তি নেই”। (সূরাহ বাকারাহ,আয়াত:২৫৬)

সম্পদের নিরাপত্তা: মহানবী (সাঃ)মানুষের জানের নিরাপত্তা প্রদানের সাথে সাথে ধন-সম্পদেরও নিরাপত্তা প্রদান করেছেন. আল্লাহ পাক বলেন। “তোমরা অন্যায় ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করোনা।” (সূরাহ বাকারা,আয়াত:১৮৮)

ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা: যিনা, শ্লিলতাহানি ও ধর্ষনের মাধ্যমে মানুষের ইজ্জত-আবরু নষ্ট হয়। এ যিনা-ব্যভিচারের সকল ছিদ্রপথ ইসলাম বন্দ করে দিয়েছে প্রথমত পর্দা বিধান এবং সেই সাথে দন্ডবিধান প্রদানের মাধ্যমে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- “ব্যভিচারিনী নারী ওব্যভিচারী পুরুষ প্রত্যেককে একশ করে বেত্রাঘাত কর।” (সূরাহ নূর,আয়াত:২)এমনকি গীবতের মাধ্যমেও মানুষের সম্মান নষ্ট হয় তাই গীবতকে হারাম করে রাসূল (সাঃ) বলেন “গীবত যিনার চাইতেও মারাত্নক গুনাহ।”

ন্যায় বিচারের অধিকার: হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সমজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ন্যায় বিচারের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। কোরআন পাকে ইরশাদ হয়েছে-“তোমরা যখন বিচার কর, তখন ন্যায় সঙ্গতভাবে বিচার কর।”(সূরাহ নিসা,আয়াত:৫৮)

ন্যায় বিচারের এক রায় উপস্হাপন করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন- “সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ,যদি মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমা (রাঃ)ও চুরি করত তাহলেও আমি তার হাত কেটে দিতাম”।

Advertisement

No Responses to “মানবাধিকার প্রতি‍‍‍‍‍‌ষ্টায় মহানবী সাঃ”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.